প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এখানকার বিশাল পাহাড় কেটে তৈরি করা চোখধাঁধানো কারুকার্য ও স্থাপত্যশৈলী আধুনিক যুগের মানুষকেও রীতিমতো অবাক করে দেয়।
বর্তমান সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রাচীন উপত্যকা ‘আল-উলা’। চোখধাঁধানো মরুভূমির প্রাকৃতিক দৃশ্য, বিলাসবহুল রিসোর্ট আর হাজার বছরের প্রাচীন পাথুরে স্থাপত্যের কারণে বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে এটি এখন অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এখানকার বিশাল পাহাড় কেটে তৈরি করা চোখধাঁধানো কারুকার্য ও স্থাপত্যশৈলী আধুনিক যুগের মানুষকেও রীতিমতো অবাক করে দেয়।
বিস্তারিত
কিন্তু একজন সাধারণ পর্যটকের চোখে আল-উলা কেবলই এক প্রাচীন সভ্যতার নান্দনিক নিদর্শন হলেও, একজন মুমিনের কাছে এবং ইসলামি ইতিহাসে এই স্থানের তাৎপর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অত্যন্ত ভয়াবহ। ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই আল-উলা অঞ্চলটিই হলো ইতিহাসের অভিশপ্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি ‘সামুদ’ (Thamud) এর বাসস্থান, যা ‘মাদায়েনে সালেহ’ (নবী সালেহের শহর) নামে পরিচিত।
মানব ইতিহাসের এক চরম অহংকারী ও অবাধ্য জাতিকে আল্লাহ–তাআলা যেখানে তাঁর কঠিন আজাব দিয়ে চিরতরে মিটিয়ে দিয়েছিলেন, সেই স্থানটি আজ পর্যটকদের আনন্দ-বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। প্রশ্ন জাগে, যে স্থানে আল্লাহর গজব নাজিল হয়েছিল, সেখানে কি একজন মুসলমানের জন্য বিনোদনমূলক ভ্রমণে যাওয়া কিংবা সময় কাটানো উচিত?
সংশ্লিষ্ট তথ্য
ইতিহাসের পাতায় সামুদ জাতি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, দীর্ঘকায় এবং প্রযুক্তিতে অগ্রসর এক জাতি। আল্লাহ–তাআলা তাদের বিপুল ধন-সম্পদ, উর্বর ভূমি, চোখ জুড়ানো বাগান ও ঝরনাধারা দান করেছিলেন।
পাহাড় কেটে সুউচ্চ ও মজবুত প্রাসাদ এবং পাথরের বুক চিরে চমৎকার সব বাসস্থান তৈরিতে তারা ছিল অদ্বিতীয়। স্থাপত্যশিল্পে তাদের এই অভূতপূর্ব দক্ষতা আজ থেকে হাজার হাজার বছর পার হওয়ার পরও আল-উলার পাহাড়ি গুহা ও ঘরগুলোতে স্পষ্ট দেখা যায়।
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
কিন্তু এই পার্থিব উন্নতি ও প্রাচুর্য সামুদ জাতির মধ্যে চরম অহংকার ও ঔদ্ধত্যের জন্ম দেয়। তারা আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের কথা ভুলে গিয়ে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয় এবং সমাজের দুর্বল ও গরিব মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করে। এই ক্রান্তিলগ্নে আল্লাহ–তাআলা তাদের হেদায়েতের জন্য তাদেরই মধ্য থেকে সালেহ (আ.) নামের এক নবীকে প্রেরণ করেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা বলেন, “আর সামুদ জাতির প্রতি আমি তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই।’” (সুরা হুদ, আয়াত: ৬১)
সালেহ (আ.) তাদের অহংকার ত্যাগ করে এক আল্লাহর প্রতি ইমান আনার এবং মানুষের ওপর জুলুম বন্ধ করার আহ্বান জানান। কিন্তু সামুদ জাতির প্রভাবশালী ও ধনী নেতারা তাঁর এই আহ্বানকে উপহাস করে উড়িয়ে দেয়।
সামুদ জাতি নবীর কাছে একটি কঠিন ও অলৌকিক মোজেজা দাবি করে বসে। তারা বলে, তিনি যদি সত্যিই আল্লাহর নবী হয়ে থাকেন, তবে যেন সামনের ওই বিশাল শক্ত পাথর খণ্ড থেকে একটি জীবন্ত, গর্ভবর্তী এবং বিশালাকৃতির শে-উট বা উষ্ট্রী বের করে দেখান।
সার্বিক পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দ্য মিডিয়া ডেস্ক 























