ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে ব্যাংকটির শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি তুলে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক উত্তাপে রূপ নেয়।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদের ৬৮ বিধির আওতায় নোটিশ তুলে ধরে বলেন, অতীতে জোরপূর্বক যাদের কাছ থেকে শেয়ার সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনা, ঋণ বিতরণ, চাকরিচ্যুতি, নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় বিপুল অঙ্কের অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে বহু কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, আবার নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতিতেও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করা হয়েছে কি না। তিনি অভিযোগ প্রমাণের চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন। একই ইস্যুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শুধুমাত্র চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের আতঙ্কে টাকা তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা স্বাভাবিক ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ সময় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তদন্তের দাবিও ওঠে। তবে স্পিকার নিয়মগত সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। ব্যাংকটির মালিকানা, শেয়ার কাঠামো ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নে সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি: জাতীয় সংসদের ফাইল ছবি
দ্য মিডিয়া ডেস্ক 
























