ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মাদক ব্যবসার অভিযোগে কারও বাড়িঘর ভাঙচুর, কাউকে পিটুনি দিয়ে এলাকাছাড়া

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার অন্তত তিনটি এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে ‘মব সৃষ্টি করে’ বাড়িঘর ভাঙচুর ও বেধড়ক পিটুনি দিয়ে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভাঙ্গা পৌর সদরের চণ্ডীদাসদী মহল্লা, হামিরদী ইউনিয়নের হামিরদী গ্রাম ও পাশের মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের কারও বাড়িঘর ভাঙচুর করে আসবাব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কাউকে সালিস বৈঠক করে কিংবা মারধর করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকার ‘সচেতন যুবসমাজের’ নামে হওয়া এসব ঘটনা প্রতিরোধে থানা-পুলিশকে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। কথিত ‘সচেতন যুবসমাজ’ মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে কাউকে পুলিশেও সোপর্দ করেনি।

‘মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে’ নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য, যাঁদের বাড়িতে হামলা হয়েছে কিংবা যাঁদের মারধর করে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে, তাঁরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে তাঁরা আবার মাদকের কারবার চালান। তাঁদের কারণে এলাকার যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ঘর তালাবদ্ধ দেখা গেছে। এ ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের দমনের নামে মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এলাকাবাসীও মাদক ব্যবসার অভিযোগে কাউকে থানায় সোপর্দ করেনি। তিনি বলেন, ‘এই মব সৃষ্টি যাতে আর না হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ আইন হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কোনো ঘটনা শোনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই এই টিম ঘটনাস্থলে চলে যাবে।’

গত শুক্রবার সকাল আটটার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদি মহল্লায় আইয়ুব শেখ (৫১) নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন দুটি ভবনে (একটি নির্মাণাধীন) হামলা চালিয়ে শাবল, লোহার বড় ও হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাব তছনছ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে দেড় ঘণ্টা ধরে বাড়িটিতে তাণ্ডব চললেও থানা-পুলিশকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। অথচ ঘটনাস্থল থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে থানা।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, চণ্ডীদাসদি মহল্লার পশ্চিম পাশে ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দারা এই হামলা চালান। এতে নেতৃত্ব দেন ওই গ্রামের বাসিন্দা ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নজরুল শিকারী, আইনজীবী মো. মাসুদ হোসেন ও একই এলাকার কামরুজ্জামান।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের দমনের নামে মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এলাকাবাসীও মাদক ব্যবসার অভিযোগে কাউকে থানায় সোপর্দ করেনি। তিনি বলেন, ‘এই মব সৃষ্টি যাতে আর না হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ আইন হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কোনো ঘটনা শোনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই এই টিম ঘটনাস্থলে চলে যাবে।’

বাড়িঘরে হামলা করে ভেঙে দেওয়ায় পর আত্মগোপনে থাকায় ময়না বেগম ও তাঁর স্বামী আইয়ুব শেখের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৯ জুন, ২০২৬ ইং
মঙ্গলবার
মাদক ব্যবসার অভিযোগে কারও
বাড়িঘর ভাঙচুর, কাউকে পিটুনি দিয়ে এলাকাছাড়া
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
ট্যাগঃ
জনপ্রিয়

মাদক ব্যবসার অভিযোগে কারও বাড়িঘর ভাঙচুর, কাউকে পিটুনি দিয়ে এলাকাছাড়া

আপডেটঃ ১০:২৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার অন্তত তিনটি এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে ‘মব সৃষ্টি করে’ বাড়িঘর ভাঙচুর ও বেধড়ক পিটুনি দিয়ে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভাঙ্গা পৌর সদরের চণ্ডীদাসদী মহল্লা, হামিরদী ইউনিয়নের হামিরদী গ্রাম ও পাশের মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের কারও বাড়িঘর ভাঙচুর করে আসবাব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কাউকে সালিস বৈঠক করে কিংবা মারধর করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকার ‘সচেতন যুবসমাজের’ নামে হওয়া এসব ঘটনা প্রতিরোধে থানা-পুলিশকে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। কথিত ‘সচেতন যুবসমাজ’ মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে কাউকে পুলিশেও সোপর্দ করেনি।

‘মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে’ নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য, যাঁদের বাড়িতে হামলা হয়েছে কিংবা যাঁদের মারধর করে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে, তাঁরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে তাঁরা আবার মাদকের কারবার চালান। তাঁদের কারণে এলাকার যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ঘর তালাবদ্ধ দেখা গেছে। এ ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের দমনের নামে মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এলাকাবাসীও মাদক ব্যবসার অভিযোগে কাউকে থানায় সোপর্দ করেনি। তিনি বলেন, ‘এই মব সৃষ্টি যাতে আর না হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ আইন হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কোনো ঘটনা শোনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই এই টিম ঘটনাস্থলে চলে যাবে।’

গত শুক্রবার সকাল আটটার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চণ্ডীদাসদি মহল্লায় আইয়ুব শেখ (৫১) নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন দুটি ভবনে (একটি নির্মাণাধীন) হামলা চালিয়ে শাবল, লোহার বড় ও হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাব তছনছ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে দেড় ঘণ্টা ধরে বাড়িটিতে তাণ্ডব চললেও থানা-পুলিশকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। অথচ ঘটনাস্থল থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে থানা।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, চণ্ডীদাসদি মহল্লার পশ্চিম পাশে ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দারা এই হামলা চালান। এতে নেতৃত্ব দেন ওই গ্রামের বাসিন্দা ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নজরুল শিকারী, আইনজীবী মো. মাসুদ হোসেন ও একই এলাকার কামরুজ্জামান।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের দমনের নামে মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এলাকাবাসীও মাদক ব্যবসার অভিযোগে কাউকে থানায় সোপর্দ করেনি। তিনি বলেন, ‘এই মব সৃষ্টি যাতে আর না হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ আইন হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কোনো ঘটনা শোনার ১৫ মিনিটের মধ্যেই এই টিম ঘটনাস্থলে চলে যাবে।’

বাড়িঘরে হামলা করে ভেঙে দেওয়ায় পর আত্মগোপনে থাকায় ময়না বেগম ও তাঁর স্বামী আইয়ুব শেখের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৯ জুন, ২০২৬ ইং
মঙ্গলবার
মাদক ব্যবসার অভিযোগে কারও
বাড়িঘর ভাঙচুর, কাউকে পিটুনি দিয়ে এলাকাছাড়া
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd