ঢাকা ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

৮ হাজার কোটি ডলারের বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হবে আগামী ১১ জুন। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপ।

টাকার অঙ্কে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার জোগাড়! উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোর মাটিতে বসছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। ফিফা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি যৌথ সমীক্ষা বলছে, এই বিশ্বকাপ থেকে তিন দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন (গ্রস ইকোনমিক আউটপুট) হতে পারে প্রায় ৮ হাজার ১০ কোটি ডলার! যদিও স্বাধীন অর্থনীতিবিদেরা একটু মুচকি হেসে বলছেন, ‘কাগজে-কলমে সংখ্যাটা যত বড় দেখায়, বাস্তবে হয়তো ততটা ফলার সুযোগ নেই।’

অবশ্য যাঁরা শুধু ফুটবল রোমান্টিক, তাদের এই হিসাব-নিকাশে কিছু যায় আসে না। ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে যখন উদ্বোধনী বাঁশি বাজবে, তখন চারপাশের এই বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশ ভুলে ফুটবলপ্রেমীরা বুঁদ হবেন মাঠের লড়াইয়ে। আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন ফাইনাল শেষ হবে, পুরো দুনিয়া ভেসে যাবে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনায়।

ফুটবলকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে চলে আসা চিরচেনা ৩২ দলের ফরম্যাট এবার ভেঙে ফেলেছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলছে রেকর্ড ৪৮টি দেশ। দল বাড়ায় ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে। টুর্নামেন্টের আয়ুও বেড়ে হচ্ছে প্রায় ছয় সপ্তাহ।

চারটি করে দল নিয়ে গড়া হয়েছে ১২টি গ্রুপ। আর এই নতুন কাঠামোর কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ ৩২-এর নকআউট পর্ব। এশিয়া আর আফ্রিকার মতো অঞ্চলের জন্য বাড়তি কোটা রাখায় সুবিধা হয়েছে তথাকথিত ‘ছোট’ দেশগুলোর। যারা এত দিন বিশ্বমঞ্চে জায়গা পেতে হন্যে হয়ে লড়ত, তাদের সামনে এখন বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ। তবে এর পেছনে ফিফার যে নিখাদ বাণিজ্যও লুকিয়ে আছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিটি ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব যে পৌঁছে গেছে অবিশ্বাস্য উচ্চতায়!

টিকিট বিক্রি আর স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য হটডগ বিক্রির বাইরেও বিশ্বকাপের একটা বিশাল অর্থনৈতিক বৃত্ত রয়েছে। ফিফা-ডব্লিউটিওর যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মহাযজ্ঞ বৈশ্বিক জিডিপিতে সরাসরি অবদান রাখবে ৪ হাজার ৯০ কোটি ডলার।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব দ্য হলি ক্রসের স্পোর্টস ইকোনমিকসের অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন নিউজউইককে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক লাভের অঙ্কটা প্রচারের চেয়ে অনেক কম হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি দেখাচ্ছেন আয়োজকদের আকাশচুম্বী খরচ আর টুর্নামেন্ট শুরুর অল্প সময় আগেও হাজার হাজার অবিক্রীত টিকিট।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব দ্য হলি ক্রসের স্পোর্টস ইকোনমিকসের অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন নিউজউইককে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক লাভের অঙ্কটা প্রচারের চেয়ে অনেক কম হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি দেখাচ্ছেন আয়োজকদের আকাশচুম্বী খরচ আর টুর্নামেন্ট শুরুর অল্প সময় আগেও হাজার হাজার অবিক্রীত টিকিট।

অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের প্রত্যেকে প্রস্তুতি খরচ বাবদ পাবে ১৫ লাখ ডলার। এমনকি কোনো ম্যাচ না জিতে বিদায় নিলেও প্রতিটি দেশের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার নিশ্চিত! মেটলাইফের মঞ্চে যারা সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, সেই চ্যাম্পিয়ন দল বাড়ি ফিরবে রেকর্ড ৫ কোটি ডলার নিয়ে। রানার্সআপ পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ ছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ ও কোয়ার্টার ফাইনালিস্টরা পাবে যথাক্রমে ২ কোটি ৯০ লাখ, ২ কোটি ৭০ লাখ এবং ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে। নতুন চালু হওয়া শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার আর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর পকেটে যাবে ৯০ লাখ ডলার।

৯ জুন, ২০২৬ ইং
মঙ্গলবার
৮ হাজার কোটি
ডলারের বিশ্বকাপ
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
ট্যাগঃ
জনপ্রিয়

৮ হাজার কোটি ডলারের বিশ্বকাপ

আপডেটঃ ০৩:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হবে আগামী ১১ জুন। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপ।

টাকার অঙ্কে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার জোগাড়! উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোর মাটিতে বসছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। ফিফা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি যৌথ সমীক্ষা বলছে, এই বিশ্বকাপ থেকে তিন দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন (গ্রস ইকোনমিক আউটপুট) হতে পারে প্রায় ৮ হাজার ১০ কোটি ডলার! যদিও স্বাধীন অর্থনীতিবিদেরা একটু মুচকি হেসে বলছেন, ‘কাগজে-কলমে সংখ্যাটা যত বড় দেখায়, বাস্তবে হয়তো ততটা ফলার সুযোগ নেই।’

অবশ্য যাঁরা শুধু ফুটবল রোমান্টিক, তাদের এই হিসাব-নিকাশে কিছু যায় আসে না। ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে যখন উদ্বোধনী বাঁশি বাজবে, তখন চারপাশের এই বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশ ভুলে ফুটবলপ্রেমীরা বুঁদ হবেন মাঠের লড়াইয়ে। আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন ফাইনাল শেষ হবে, পুরো দুনিয়া ভেসে যাবে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনায়।

ফুটবলকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে চলে আসা চিরচেনা ৩২ দলের ফরম্যাট এবার ভেঙে ফেলেছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলছে রেকর্ড ৪৮টি দেশ। দল বাড়ায় ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে। টুর্নামেন্টের আয়ুও বেড়ে হচ্ছে প্রায় ছয় সপ্তাহ।

চারটি করে দল নিয়ে গড়া হয়েছে ১২টি গ্রুপ। আর এই নতুন কাঠামোর কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা শেষ ৩২-এর নকআউট পর্ব। এশিয়া আর আফ্রিকার মতো অঞ্চলের জন্য বাড়তি কোটা রাখায় সুবিধা হয়েছে তথাকথিত ‘ছোট’ দেশগুলোর। যারা এত দিন বিশ্বমঞ্চে জায়গা পেতে হন্যে হয়ে লড়ত, তাদের সামনে এখন বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ। তবে এর পেছনে ফিফার যে নিখাদ বাণিজ্যও লুকিয়ে আছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিটি ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব যে পৌঁছে গেছে অবিশ্বাস্য উচ্চতায়!

টিকিট বিক্রি আর স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য হটডগ বিক্রির বাইরেও বিশ্বকাপের একটা বিশাল অর্থনৈতিক বৃত্ত রয়েছে। ফিফা-ডব্লিউটিওর যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মহাযজ্ঞ বৈশ্বিক জিডিপিতে সরাসরি অবদান রাখবে ৪ হাজার ৯০ কোটি ডলার।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব দ্য হলি ক্রসের স্পোর্টস ইকোনমিকসের অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন নিউজউইককে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক লাভের অঙ্কটা প্রচারের চেয়ে অনেক কম হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি দেখাচ্ছেন আয়োজকদের আকাশচুম্বী খরচ আর টুর্নামেন্ট শুরুর অল্প সময় আগেও হাজার হাজার অবিক্রীত টিকিট।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব দ্য হলি ক্রসের স্পোর্টস ইকোনমিকসের অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন নিউজউইককে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক লাভের অঙ্কটা প্রচারের চেয়ে অনেক কম হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি দেখাচ্ছেন আয়োজকদের আকাশচুম্বী খরচ আর টুর্নামেন্ট শুরুর অল্প সময় আগেও হাজার হাজার অবিক্রীত টিকিট।

অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের প্রত্যেকে প্রস্তুতি খরচ বাবদ পাবে ১৫ লাখ ডলার। এমনকি কোনো ম্যাচ না জিতে বিদায় নিলেও প্রতিটি দেশের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার নিশ্চিত! মেটলাইফের মঞ্চে যারা সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, সেই চ্যাম্পিয়ন দল বাড়ি ফিরবে রেকর্ড ৫ কোটি ডলার নিয়ে। রানার্সআপ পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ ছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ ও কোয়ার্টার ফাইনালিস্টরা পাবে যথাক্রমে ২ কোটি ৯০ লাখ, ২ কোটি ৭০ লাখ এবং ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে। নতুন চালু হওয়া শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার আর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর পকেটে যাবে ৯০ লাখ ডলার।

৯ জুন, ২০২৬ ইং
মঙ্গলবার
৮ হাজার কোটি
ডলারের বিশ্বকাপ
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd