পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশে ভাইপো তৃণমূলের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ মে ২০২৬, কলকাতাছবি: এএনআই‘বাংলায় আমাদের যত অত্যাচার করবেন, দিল্লিতে আপনাদের সমস্যা তত বাড়বে।’ গত ২৪ মে বিজেপিকে এভাবেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। তৃণমূলের কর্মীরা যখন নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার শিকার হচ্ছিলেন, তখন তিনি এ মন্তব্য করেন।
তবে গত দুই সপ্তাহে দিল্লি ও বাংলায় তৃণমূলের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত সপ্তাহে দলের ৮০ জন এমএলএর প্রায় ৫৮ জনের একটা বড় অংশ মমতার সিদ্ধান্ত অমান্য করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিজেদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করে। এরপর গত সোমবার লোকসভায়ও তৃণমূলের এমপিরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
তৃণমূলের প্রবীণ এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, দলের ২৮ জন লোকসভা এমপির মধ্যে ২০ জনই বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অথচ জাতীয় স্তরে বিজেপিবিরোধী জোটের তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি ছিল এই তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের এই বিদ্রোহের মূল তির দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা। বিদ্রোহীদের অভিযোগ, অভিষেক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের কারণে তৃণমূল জনগণের সমর্থন হারিয়েছে।
অন্যদিকে দলের অন্য অংশের দাবি, বিজেপি ভয় দেখিয়ে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে দল ভাঙার এই চক্রান্ত করছে।
তবে দলটির এই পতনের পেছনে উভয় পক্ষই একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এড়িয়ে যাচ্ছে। সেটি হলো, তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর চরম বিপর্যয়।
দ্য মিডিয়া ডেস্ক 





















