ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

‘আইসকিরিম বেচি ব্যাটাবেটির নেকাপড়ার খরোচ কুলব্যার পাচ্চি না’

প্রায় ৩০ বছর ধরে ফেরি করে আইসক্রিম বিক্রি করছেন নুরে আলম। বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা বাজারেছবি: প্রথম আলোসংসারে অভাবের শেষ নেই নুরে আলমের। বয়স ৫৮ পেরোলেও অভাবের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই থামেনি। প্রায় তিন দশক ধরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা গ্রামগঞ্জে ফেরি করে আইসক্রিম বিক্রি করেন, আর শীতকালে করেন ভাঙারির ব্যবসা। সামান্য এই আয়ে নিজের কষ্টের জীবন টেনে নেওয়ার পাশাপাশি দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন। বড় ছেলে স্নাতকোত্তর পাস করলেও এখনো চাকরি পাননি। এত সংকটের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন বদলাননি তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা বাজারে দাঁড়িয়ে কথা হয় নুরে আলমের সঙ্গে। কথায়–কথায় জানা যায়, তাঁর বাড়ি বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি হিরোবাজার গ্রামে।

নুরে আলম জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ফেরি করে আইসক্রিম ও ভাঙারির ব্যবসা করছেন। এ ব্যবসার আয়েই চলে তাঁর সংসার। নানা কষ্টের মধ্যেও দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় ছেলে সবুজ মিয়া রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। তবে অনেক চেষ্টা করেও চাকরি পাননি। ছোট ছেলে শিহাব মিয়া স্থানীয় কাঠগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একমাত্র মেয়ে লুনা আক্তার রংপুর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজে বাংলা বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন।

নুরে আলমের সম্পদ বলতে ১৩ শতক বসতভিটা ছাড়া আর কিছু নেই। স্ত্রী শাহিনুর বেগমকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার তাঁর। তিনি বলেন, প্রতি মাসে মেয়ের পড়াশোনার জন্য অন্তত তিন হাজার টাকা পাঠাতে হয়। বিশেষ করে পরীক্ষা ও ফরম পূরণের সময় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। তখন সংসারের খরচ কমাতে হয়, কখনো ধারদেনাও করতে হয়। অনেক মাস মেয়েকে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হয় না। তাই মেয়েও পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে কিছু আয় করছেন।

নিজের ভাষায় নুরে আলম বলেন, ‘৩০ বচোর থাকি গরোমের সময় ফেরি করি আইসকিরিম বেচি। শীতের কয় মাস ভাংরির বেপসা করি। কোনো দিন হাট-বাজারোত, কোনো দিন আসতা-ঘাটোত বেচি। ভাংরির বেপসাত পোত্তেক দিন ৩০০-৪০০ ট্যাকা আর আইসকিরিম বেচি পোত্তেক দিন ২০০-৩০০ ট্যাকা কামাই হচ্চে।’

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে জানিয়ে নুরে আলম বলেন, ‘এই ট্যাকা আয় দিয়া সোংসার চলাতে অবোসতা কাহিল। আইসকিরিম বেচি ব্যাটাবেটির নেকাপড়ার খরোচ কুলব্যার পাচ্চি না।’

১৩ জুন, ২০২৬ ইং
শনিবার
‘আইসকিরিম বেচি ব্যাটাবেটির নেকাপড়ার
খরোচ কুলব্যার পাচ্চি না’
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
ট্যাগঃ
জনপ্রিয়

‘আইসকিরিম বেচি ব্যাটাবেটির নেকাপড়ার খরোচ কুলব্যার পাচ্চি না’

আপডেটঃ ০৯:২৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

প্রায় ৩০ বছর ধরে ফেরি করে আইসক্রিম বিক্রি করছেন নুরে আলম। বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা বাজারেছবি: প্রথম আলোসংসারে অভাবের শেষ নেই নুরে আলমের। বয়স ৫৮ পেরোলেও অভাবের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই থামেনি। প্রায় তিন দশক ধরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা গ্রামগঞ্জে ফেরি করে আইসক্রিম বিক্রি করেন, আর শীতকালে করেন ভাঙারির ব্যবসা। সামান্য এই আয়ে নিজের কষ্টের জীবন টেনে নেওয়ার পাশাপাশি দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন। বড় ছেলে স্নাতকোত্তর পাস করলেও এখনো চাকরি পাননি। এত সংকটের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন বদলাননি তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা বাজারে দাঁড়িয়ে কথা হয় নুরে আলমের সঙ্গে। কথায়–কথায় জানা যায়, তাঁর বাড়ি বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি হিরোবাজার গ্রামে।

নুরে আলম জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ফেরি করে আইসক্রিম ও ভাঙারির ব্যবসা করছেন। এ ব্যবসার আয়েই চলে তাঁর সংসার। নানা কষ্টের মধ্যেও দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। বড় ছেলে সবুজ মিয়া রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। তবে অনেক চেষ্টা করেও চাকরি পাননি। ছোট ছেলে শিহাব মিয়া স্থানীয় কাঠগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একমাত্র মেয়ে লুনা আক্তার রংপুর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজে বাংলা বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন।

নুরে আলমের সম্পদ বলতে ১৩ শতক বসতভিটা ছাড়া আর কিছু নেই। স্ত্রী শাহিনুর বেগমকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার তাঁর। তিনি বলেন, প্রতি মাসে মেয়ের পড়াশোনার জন্য অন্তত তিন হাজার টাকা পাঠাতে হয়। বিশেষ করে পরীক্ষা ও ফরম পূরণের সময় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। তখন সংসারের খরচ কমাতে হয়, কখনো ধারদেনাও করতে হয়। অনেক মাস মেয়েকে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হয় না। তাই মেয়েও পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে কিছু আয় করছেন।

নিজের ভাষায় নুরে আলম বলেন, ‘৩০ বচোর থাকি গরোমের সময় ফেরি করি আইসকিরিম বেচি। শীতের কয় মাস ভাংরির বেপসা করি। কোনো দিন হাট-বাজারোত, কোনো দিন আসতা-ঘাটোত বেচি। ভাংরির বেপসাত পোত্তেক দিন ৩০০-৪০০ ট্যাকা আর আইসকিরিম বেচি পোত্তেক দিন ২০০-৩০০ ট্যাকা কামাই হচ্চে।’

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে জানিয়ে নুরে আলম বলেন, ‘এই ট্যাকা আয় দিয়া সোংসার চলাতে অবোসতা কাহিল। আইসকিরিম বেচি ব্যাটাবেটির নেকাপড়ার খরোচ কুলব্যার পাচ্চি না।’

১৩ জুন, ২০২৬ ইং
শনিবার
‘আইসকিরিম বেচি ব্যাটাবেটির নেকাপড়ার
খরোচ কুলব্যার পাচ্চি না’
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd