ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মিসিসিপি নদী বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়েছিল কেন

সে সময়ের মানুষের গল্প থেকে জানা যায়, ১৮১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে, যখন আকাশ কেবল একটু একটু ফরসা হচ্ছে, ঠিক তখন হঠাৎ পুরো এলাকা এক তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে। আর এটাই ছিল সেই ভয়ংকর ঐতিহাসিক ভূমিকম্পের প্রথম বড় ধাক্কা

ভূমিকম্প কেন হয় তা কমবেশি সবারই জানা। মাটির নিচের টেকটোনিক প্লেটগুলো যখন একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন পৃথিবী কেঁপে ওঠে। কিন্তু আজ থেকে অনেক বছর আগে যখন বিজ্ঞানের ধারণাগুলো এত উন্নত ছিল না, তখন মানুষ ভাবত অন্য কথা। তারা মনে করত, মানুষ কোনো বড় পাপ করলে ঈশ্বর রেগে গিয়ে শাস্তি হিসেবে এই ভূমিকম্প দেন। ১৮১১ আর ১৮১২ সালের দিকে আমেরিকার নিউ ম্যাড্রিড নামের এক জায়গায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন মানুষের মনে এই কুসংস্কার আর ভয় আরও অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

সে সময়ের মানুষের গল্প থেকে জানা যায়, ১৮১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে, যখন আকাশ কেবল একটু একটু ফরসা হচ্ছে, ঠিক তখন হঠাৎ পুরো এলাকা এক তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে। আর এটাই ছিল সেই ভয়ংকর ঐতিহাসিক ভূমিকম্পের প্রথম বড় ধাক্কা।

বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির নিউ ম্যাড্রিড এলাকার পুরোনো লেখা থেকে সেই রাতের বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে লেখা হয়, হঠাৎ করেই এক প্রচণ্ড ভূমিকম্পের ধাক্কা। সেই সঙ্গে শুরু হয় এক ভয়ংকর আওয়াজ। মনে হচ্ছিল অনেক দূর থেকে বজ্রপাতের গর্জন ভেসে আসছে, কিন্তু সেই শব্দ ছিল আরও বেশি কর্কশ আর কাঁপানো। সব মিলিয়ে সেখানে এক সত্যিকারের ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি হয়। মিসিসিপি নদীর পানির স্রোতও কয়েক মিনিটের জন্য উল্টো দিকে বইতে শুরু করেছিল।

১৮১১ ও ১৮১২ সালের এই নিউ ম্যাড্রিড ভূমিকম্পের সময় কিন্তু আজকের রিখটার স্কেল বা ভূমিকম্প মাপার আধুনিক কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি। কারণ, এই স্কেলগুলো তৈরি হয়েছে সেই ঘটনারও এক শতাব্দীর বেশি সময় পর। তবে ১৯৭৩ সালে বিখ্যাত ভূকম্পবিদ অটো নাটলি প্রাচীন সব তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে একটি গাণিতিক হিসাব বের করেন। তার সেই হিসাব অনুযায়ী, ১৮১১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের প্রথম বড় ভূকম্পনটির তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে প্রায় ৭.২।

যদিও সেই সময়ে ওই এলাকায় ছোটখাটো মৃদু ভূমিকম্প প্রায় প্রতিদিনই হতো। ১৮১৪ সাল পর্যন্ত এই ধারা চলেছিল। কিন্তু এত বড় ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প ছিল খুবই বিরল। আর এই কারণেই প্রথম ধাক্কাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। ভয়ংকর এই দুর্যোগ কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি। এর পর ১৮১২ সালের ২৩ জানুয়ারি এবং ৭ ফেব্রুয়ারি আরও দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। যার তীব্রতা ছিল ৭.১ ও ৭.৪।

শেষ ভূমিকম্পটির সময় মিসিসিপি নদীতে থাকা নৌকার মাঝিরা এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর দৃশ্য দেখেছিলেন। নদীর পানি কিছু কিছু জায়গায় উল্টো দিকে বইতে শুরু করেছিল। বিজ্ঞানীরা একে বলেন ফ্লুভিয়াল সুনামি (Fluvial Tsunami)। আসলে মাটির নিচের টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে নদীর তলদেশের মাটি হঠাৎ খাড়া হয়ে ওপরে উঠে গিয়েছিল। এতে নদীতে একধরনের প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয় ও পানির স্বাভাবিক গতি থমকে গিয়ে সাময়িকভাবে উল্টো দিকে বইতে বাধ্য হয়।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৯ জুন, ২০২৬ ইং
মঙ্গলবার
মিসিসিপি নদী বিপরীত দিকে
প্রবাহিত হয়েছিল কেন
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
ট্যাগঃ
জনপ্রিয়

মিসিসিপি নদী বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়েছিল কেন

আপডেটঃ ০৬:৪৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

সে সময়ের মানুষের গল্প থেকে জানা যায়, ১৮১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে, যখন আকাশ কেবল একটু একটু ফরসা হচ্ছে, ঠিক তখন হঠাৎ পুরো এলাকা এক তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে। আর এটাই ছিল সেই ভয়ংকর ঐতিহাসিক ভূমিকম্পের প্রথম বড় ধাক্কা

ভূমিকম্প কেন হয় তা কমবেশি সবারই জানা। মাটির নিচের টেকটোনিক প্লেটগুলো যখন একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন পৃথিবী কেঁপে ওঠে। কিন্তু আজ থেকে অনেক বছর আগে যখন বিজ্ঞানের ধারণাগুলো এত উন্নত ছিল না, তখন মানুষ ভাবত অন্য কথা। তারা মনে করত, মানুষ কোনো বড় পাপ করলে ঈশ্বর রেগে গিয়ে শাস্তি হিসেবে এই ভূমিকম্প দেন। ১৮১১ আর ১৮১২ সালের দিকে আমেরিকার নিউ ম্যাড্রিড নামের এক জায়গায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। তখন মানুষের মনে এই কুসংস্কার আর ভয় আরও অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

সে সময়ের মানুষের গল্প থেকে জানা যায়, ১৮১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে, যখন আকাশ কেবল একটু একটু ফরসা হচ্ছে, ঠিক তখন হঠাৎ পুরো এলাকা এক তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে। আর এটাই ছিল সেই ভয়ংকর ঐতিহাসিক ভূমিকম্পের প্রথম বড় ধাক্কা।

বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির নিউ ম্যাড্রিড এলাকার পুরোনো লেখা থেকে সেই রাতের বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে লেখা হয়, হঠাৎ করেই এক প্রচণ্ড ভূমিকম্পের ধাক্কা। সেই সঙ্গে শুরু হয় এক ভয়ংকর আওয়াজ। মনে হচ্ছিল অনেক দূর থেকে বজ্রপাতের গর্জন ভেসে আসছে, কিন্তু সেই শব্দ ছিল আরও বেশি কর্কশ আর কাঁপানো। সব মিলিয়ে সেখানে এক সত্যিকারের ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি হয়। মিসিসিপি নদীর পানির স্রোতও কয়েক মিনিটের জন্য উল্টো দিকে বইতে শুরু করেছিল।

১৮১১ ও ১৮১২ সালের এই নিউ ম্যাড্রিড ভূমিকম্পের সময় কিন্তু আজকের রিখটার স্কেল বা ভূমিকম্প মাপার আধুনিক কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়নি। কারণ, এই স্কেলগুলো তৈরি হয়েছে সেই ঘটনারও এক শতাব্দীর বেশি সময় পর। তবে ১৯৭৩ সালে বিখ্যাত ভূকম্পবিদ অটো নাটলি প্রাচীন সব তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে একটি গাণিতিক হিসাব বের করেন। তার সেই হিসাব অনুযায়ী, ১৮১১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের প্রথম বড় ভূকম্পনটির তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে প্রায় ৭.২।

যদিও সেই সময়ে ওই এলাকায় ছোটখাটো মৃদু ভূমিকম্প প্রায় প্রতিদিনই হতো। ১৮১৪ সাল পর্যন্ত এই ধারা চলেছিল। কিন্তু এত বড় ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প ছিল খুবই বিরল। আর এই কারণেই প্রথম ধাক্কাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। ভয়ংকর এই দুর্যোগ কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেনি। এর পর ১৮১২ সালের ২৩ জানুয়ারি এবং ৭ ফেব্রুয়ারি আরও দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। যার তীব্রতা ছিল ৭.১ ও ৭.৪।

শেষ ভূমিকম্পটির সময় মিসিসিপি নদীতে থাকা নৌকার মাঝিরা এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর দৃশ্য দেখেছিলেন। নদীর পানি কিছু কিছু জায়গায় উল্টো দিকে বইতে শুরু করেছিল। বিজ্ঞানীরা একে বলেন ফ্লুভিয়াল সুনামি (Fluvial Tsunami)। আসলে মাটির নিচের টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে নদীর তলদেশের মাটি হঠাৎ খাড়া হয়ে ওপরে উঠে গিয়েছিল। এতে নদীতে একধরনের প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয় ও পানির স্বাভাবিক গতি থমকে গিয়ে সাময়িকভাবে উল্টো দিকে বইতে বাধ্য হয়।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

৯ জুন, ২০২৬ ইং
মঙ্গলবার
মিসিসিপি নদী বিপরীত দিকে
প্রবাহিত হয়েছিল কেন
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd