ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

গাছে থোকায় থোকায় আঙুর, সমৃদ্ধির পথ পেয়ে গেছেন কৃষক জাহাঙ্গীর

আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষক জাহাঙ্গীর আলম। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কৃষ্ণ বাটি গ্রামে তাঁর আঙুরের খেতছবি: প্রথম আলোবিভিন্ন রকম চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসারের কোনোমতে সংসারের ঘানি টেনে নিচ্ছিলেন কৃষক জাহাঙ্গীর আলম (মিন্টু)। কৃষিকাজ থেকে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়ে ধীরে ধীরে কিছু জমিজমা কেনেন। আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে নিজের বসতবাড়িটি পাকা করার স্বপ্নও পূরণ করতে পারেননি। কেননা অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য দেখা দিচ্ছিল না তাঁকে। এর মধ্যে এ বছর আঙুর ফলের চাষ করে বাজিমাত করেছেন জাহাঙ্গীর। মাত্র ২৫ শতাংশ জমি থেকে ১০ লাখ টাকার আঙুর ও চারা বিক্রি করেছেন। পেয়ে গেছেন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ।

৫০ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর এখন আঙুর চাষকে ঘিরেই বড় স্বপ্ন দেখছেন। নতুন করে ৪৫ শতক জমিতে এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। বিক্রি করছেন আঙুরের চারা। সেই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তাদের খেত প্রস্তুত করা থেকে ফল উৎপাদন পর্যন্ত পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন। জাহাঙ্গীরের আঙুর চাষের সাফল্যে যশোরে দেখা দিয়েছে নতুন এক সম্ভাবনা।

জাহাঙ্গীরের বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামে। ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক পাস করার পর দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরে সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হন। ছয় মাস কারাগারে দুর্বিষহ বন্দিজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন। এরপর শুরু করেন চাষাবাদ। কৃষিকাজ থেকে সামান্য আয়ে চলতো তাঁর সংসার। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে নিজের বসতবাড়িটিও ভালোভাবে গড়ে নির্মাণ করতে পারেননি তিনি।

আধুনিক কৃষির প্রতি শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল জাহাঙ্গীরের। ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখে তিনি বাড়ির পাশের মাঠে ২৫ শতাংশ জমিতে আঙুর চাষ শুরু করেন। এ বছর আঙুর বিক্রি করে ভালো লাভ হওয়ায় নতুন করে আরও ৪৫ শতক জমিতে চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। শুধু আঙুর উৎপাদনই নয়, একই সঙ্গে আঙুরের চারা তৈরি করেও বিক্রি করছেন। প্রতিটি চারা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর দুই জাতের আঙুর চাষ করেছেন। বাইকুনুর ও রাশিয়ান একেলো। জাহাঙ্গীর জানান, ইউটিউবে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যোগীহুদা গ্রামের একটি আঙুরখেতের ভিডিও দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। পরে সেখানে গিয়ে ৩০০ টাকা করে চারা কিনে এনে রোপণ করেন এবং ওই খেতের মালিকের পরামর্শে চাষ শুরু করেন।

গত ১ জুন বিকেলে কৃষ্ণবাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ফসলের মাঠের মাঝখানে জাল দিয়ে ঘেরা একটি ছোট আঙুরখেত। পিচের রাস্তা থেকে নেমে মাঠের মাঝ দিয়ে মোটরসাইকেল ও হেঁটে দলে দলে মানুষ ছুটছেন ওই খেতের দিকে।

সূত্র: মূল সংবাদ পড়ুন

২০ জুন, ২০২৬ ইং
শনিবার
গাছে থোকায় থোকায় আঙুর,
সমৃদ্ধির পথ পেয়ে গেছেন কৃষক জাহাঙ্গীর
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
জনপ্রিয়

জমিতে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু, বাবাকে স্পর্শ করে ছেলে আহত

গাছে থোকায় থোকায় আঙুর, সমৃদ্ধির পথ পেয়ে গেছেন কৃষক জাহাঙ্গীর

আপডেটঃ ০৯:২২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষক জাহাঙ্গীর আলম। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কৃষ্ণ বাটি গ্রামে তাঁর আঙুরের খেতছবি: প্রথম আলোবিভিন্ন রকম চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসারের কোনোমতে সংসারের ঘানি টেনে নিচ্ছিলেন কৃষক জাহাঙ্গীর আলম (মিন্টু)। কৃষিকাজ থেকে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়ে ধীরে ধীরে কিছু জমিজমা কেনেন। আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে নিজের বসতবাড়িটি পাকা করার স্বপ্নও পূরণ করতে পারেননি। কেননা অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য দেখা দিচ্ছিল না তাঁকে। এর মধ্যে এ বছর আঙুর ফলের চাষ করে বাজিমাত করেছেন জাহাঙ্গীর। মাত্র ২৫ শতাংশ জমি থেকে ১০ লাখ টাকার আঙুর ও চারা বিক্রি করেছেন। পেয়ে গেছেন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ।

৫০ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর এখন আঙুর চাষকে ঘিরেই বড় স্বপ্ন দেখছেন। নতুন করে ৪৫ শতক জমিতে এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। বিক্রি করছেন আঙুরের চারা। সেই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তাদের খেত প্রস্তুত করা থেকে ফল উৎপাদন পর্যন্ত পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন। জাহাঙ্গীরের আঙুর চাষের সাফল্যে যশোরে দেখা দিয়েছে নতুন এক সম্ভাবনা।

জাহাঙ্গীরের বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামে। ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক পাস করার পর দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরে সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হন। ছয় মাস কারাগারে দুর্বিষহ বন্দিজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন। এরপর শুরু করেন চাষাবাদ। কৃষিকাজ থেকে সামান্য আয়ে চলতো তাঁর সংসার। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে নিজের বসতবাড়িটিও ভালোভাবে গড়ে নির্মাণ করতে পারেননি তিনি।

আধুনিক কৃষির প্রতি শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল জাহাঙ্গীরের। ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক ভিডিও দেখে তিনি বাড়ির পাশের মাঠে ২৫ শতাংশ জমিতে আঙুর চাষ শুরু করেন। এ বছর আঙুর বিক্রি করে ভালো লাভ হওয়ায় নতুন করে আরও ৪৫ শতক জমিতে চাষ সম্প্রসারণ করেছেন। শুধু আঙুর উৎপাদনই নয়, একই সঙ্গে আঙুরের চারা তৈরি করেও বিক্রি করছেন। প্রতিটি চারা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর দুই জাতের আঙুর চাষ করেছেন। বাইকুনুর ও রাশিয়ান একেলো। জাহাঙ্গীর জানান, ইউটিউবে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যোগীহুদা গ্রামের একটি আঙুরখেতের ভিডিও দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। পরে সেখানে গিয়ে ৩০০ টাকা করে চারা কিনে এনে রোপণ করেন এবং ওই খেতের মালিকের পরামর্শে চাষ শুরু করেন।

গত ১ জুন বিকেলে কৃষ্ণবাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ফসলের মাঠের মাঝখানে জাল দিয়ে ঘেরা একটি ছোট আঙুরখেত। পিচের রাস্তা থেকে নেমে মাঠের মাঝ দিয়ে মোটরসাইকেল ও হেঁটে দলে দলে মানুষ ছুটছেন ওই খেতের দিকে।

সূত্র: মূল সংবাদ পড়ুন

২০ জুন, ২০২৬ ইং
শনিবার
গাছে থোকায় থোকায় আঙুর,
সমৃদ্ধির পথ পেয়ে গেছেন কৃষক জাহাঙ্গীর
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd