ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

রাজনীতি, যুদ্ধ আর দামের চাপে বদলে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অর্থনীতি

বিশ্বকাপ খুব কম সময়ই পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত থেকেছে। তবে এবার যে জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার নজির আগে খুব কমই দেখা গেছে। প্রধান আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধরত আর যে দেশের সঙ্গে তাদের সংঘাত, সেই দেশও বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে এখন যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হলেও দলটি অবস্থান করছে সহ-আয়োজক মেক্সিকোতে। ম্যাচের আগের দিন তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বাস্তবতা। সেটি হলো, ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন সহ-আয়োজক-যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এখন নিজেদের মধ্যেই তীব্র বাণিজ্যসংঘাতে জড়িত। মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে উত্তর আমেরিকার এই তিন দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বকাপের আবহে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংঘাতের গতিপথ বদলাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে ফুটবলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। এটি শুধু ফুটবল অর্থনীতির পুনর্গঠন নয়, বরং আধুনিক অর্থনীতি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তারও একটি উদাহরণ।

স্কটল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ জক স্টেইল বলেছিলেন, ‘সমর্থক ছাড়া ফুটবল কিছুই নয়।’ কিন্তু সেই সমর্থকেরাই এবার সবচেয়ে বেশি চাপে। বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম বেড়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অনেকের নাগালের বাইরে। এমনকি স্টেডিয়ামে যাওয়ার ট্রেনভাড়াও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ টিকিটের দামের কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ট্রানজিটের সাধারণ ফিরতি ভাড়া ১২ দশমিক ৯০ ডলার হলেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে তা প্রায় ৮ গুণ বেড়ে ১০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে নতুন অর্থনৈতিক মডেল। টুর্নামেন্টের বড় অংশই অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ কানাডা ও মেক্সিকোয় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোতে এনএফএলের ব্যবসায়িক মডেলের প্রভাব স্পষ্ট।

ফলে ‘ফেয়ার প্লে’ বা ‘সুন্দর খেলা’ ফুটবল এখন ফিফার জন্য আরও বেশি ‘লাভজনক খেলায়’ পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী আয়োজনগুলোর একটি হতে পারে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ‘কে-আকৃতির অর্থনীতি’র প্রতিফলন। অর্থাৎ সমাজের একাংশ দ্রুত এগিয়ে যায়, অন্য অংশ পিছিয়ে পড়ে। টিকিটের মূল্য নির্ধারণও যেন মূলত উচ্চ আয়ের দর্শকদের কেন্দ্র করেই করা হয়েছে।

২০ জুন, ২০২৬ ইং
শনিবার
রাজনীতি, যুদ্ধ আর দামের
চাপে বদলে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অর্থনীতি
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
ট্যাগঃ
জনপ্রিয়

জমিতে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু, বাবাকে স্পর্শ করে ছেলে আহত

রাজনীতি, যুদ্ধ আর দামের চাপে বদলে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অর্থনীতি

আপডেটঃ ০৯:১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ খুব কম সময়ই পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত থেকেছে। তবে এবার যে জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার নজির আগে খুব কমই দেখা গেছে। প্রধান আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধরত আর যে দেশের সঙ্গে তাদের সংঘাত, সেই দেশও বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে এখন যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হলেও দলটি অবস্থান করছে সহ-আয়োজক মেক্সিকোতে। ম্যাচের আগের দিন তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বাস্তবতা। সেটি হলো, ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন সহ-আয়োজক-যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এখন নিজেদের মধ্যেই তীব্র বাণিজ্যসংঘাতে জড়িত। মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে উত্তর আমেরিকার এই তিন দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বকাপের আবহে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংঘাতের গতিপথ বদলাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে ফুটবলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। এটি শুধু ফুটবল অর্থনীতির পুনর্গঠন নয়, বরং আধুনিক অর্থনীতি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তারও একটি উদাহরণ।

স্কটল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ জক স্টেইল বলেছিলেন, ‘সমর্থক ছাড়া ফুটবল কিছুই নয়।’ কিন্তু সেই সমর্থকেরাই এবার সবচেয়ে বেশি চাপে। বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম বেড়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অনেকের নাগালের বাইরে। এমনকি স্টেডিয়ামে যাওয়ার ট্রেনভাড়াও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ টিকিটের দামের কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ট্রানজিটের সাধারণ ফিরতি ভাড়া ১২ দশমিক ৯০ ডলার হলেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে তা প্রায় ৮ গুণ বেড়ে ১০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে নতুন অর্থনৈতিক মডেল। টুর্নামেন্টের বড় অংশই অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ কানাডা ও মেক্সিকোয় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোতে এনএফএলের ব্যবসায়িক মডেলের প্রভাব স্পষ্ট।

ফলে ‘ফেয়ার প্লে’ বা ‘সুন্দর খেলা’ ফুটবল এখন ফিফার জন্য আরও বেশি ‘লাভজনক খেলায়’ পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী আয়োজনগুলোর একটি হতে পারে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি ‘কে-আকৃতির অর্থনীতি’র প্রতিফলন। অর্থাৎ সমাজের একাংশ দ্রুত এগিয়ে যায়, অন্য অংশ পিছিয়ে পড়ে। টিকিটের মূল্য নির্ধারণও যেন মূলত উচ্চ আয়ের দর্শকদের কেন্দ্র করেই করা হয়েছে।

২০ জুন, ২০২৬ ইং
শনিবার
রাজনীতি, যুদ্ধ আর দামের
চাপে বদলে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অর্থনীতি
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd