যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুছবি: রয়টার্সবিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত দুটি বড় শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল। ওই চুক্তি দুটিতে ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি সিরিয়ার সঙ্গেও একটি তৃতীয়, নির্ধারক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এই চুক্তিগুলোর পেছনে ছিল কয়েক দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। এগুলো ছিল—১৯৫৬ সালের ত্রিপক্ষীয় আগ্রাসন, ১৯৬৭ নাকসা, ১৯৭৩ সালের অক্টোবর যুদ্ধ, ১৯৭৮ সালে লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং ১৯৮২ সালে বৈরুত আক্রমণ।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সেই শান্তির পথে এগোনোর প্রচেষ্টা থেকে সরে এসেছে। বরং উল্টো পথে গিয়ে তারা ইসরায়েলকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, যেখানে সামরিক শক্তির জোরে গোটা অঞ্চলে আধিপত্য কায়েম করাই হয়ে উঠেছে মূল লক্ষ্য। ফলে এখন যখন ওয়াশিংটনের প্রয়োজন একটি কার্যকর শান্তিচুক্তি করা এবং তা ধরে রাখা, তখন তারা তা করতে পারছে না। কারণ, তারা নিজেরাই বহুদিন ধরে ইসরায়েলের আগ্রাসনকে উৎসাহ দিয়ে এসেছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রচিন্তার ভেতরে শুরু থেকেই একধরনের নিরাপত্তাহীনতা কাজ করেছে। আরব অধ্যুষিত এবং ইসলামপ্রধান একটি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন করে রাষ্ট্র গড়ার প্রকল্পে তারা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কিত ছিল। এই শঙ্কা মোকাবিলায় তারা দুটি ভিন্ন পথ তৈরি করে।
প্রথম পথটি ছিল শক্তি ও সামরিক নিষ্ঠুরতার ওপর নির্ভরশীল। এই ধারণা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন জিয়েভ জাবোটিনস্কি, যিনি ফিলিস্তিনে ইরগুন নামে একটি সশস্ত্র সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। ১৯২৩ সালে লেখা তাঁর ‘লোহার দেয়াল’ প্রবন্ধে তিনি বলেন, জায়নবাদী উপনিবেশ স্থাপন হয় থেমে যাবে, না হলে স্থানীয় জনগণকে উপেক্ষা করেই চলবে। আর তা সম্ভব কেবল এমন এক শক্তিশালী সুরক্ষার আড়ালে, যা স্থানীয়দের পক্ষে ভাঙা অসম্ভব; আর সেটিই হলো লোহার দেয়াল।
ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নও একইভাবে বিশ্বাস করতেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতাকেই শক্তির মাধ্যমে বদলে ফেলতে হবে।
বহু বছর পর লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৯৯৩ সালে লেখা তাঁর বইয়ে লিখেছিলেন, ইসরায়েলকে টিকে থাকতে হলে তাকে অবশ্যই সামরিকভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকতে হবে এবং সেই অনুযায়ী অঞ্চলকে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি এই নীতিতেই অটল থেকেছেন। এর ফল হয়েছে মৃত্যু, ধ্বংস এবং অস্থিতিশীলতা।
দ্বিতীয় পথটি তৈরি হয় ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পর। তখন ইসরায়েল নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়ে। তখন ‘শান্তির মাধ্যমে অস্তিত্ব’ ধারণাটি সামনে আসে। এই ধারণা অনুযায়ী, ইসরায়েল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টিকে থাকতে পারে। এর ভিত্তি ছিল ‘ভূমির বিনিময়ে শান্তি’—অর্থাৎ ১৯৬৭ সালে দখল করা ভূখণ্ড ফিরিয়ে দিয়ে স্বীকৃতি ও শান্তি অর্জন।
দ্য মিডিয়া ডেস্ক 





















