জুলাই গণহত্যার বিচারে ধীরগতি দেখছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এই ধীরগতি কেন, তা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাইয়ের অমানবিক যে গণহত্যা, যে গণহত্যার কথা বলছি, সেটা ইন্টারন্যাশনাল লতে জেনোসাইড বলা হয়, সেটা নয়। এটা ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি। সেটার বিচার কেন স্লো হয়ে গেল? সেটার তদন্ত গত চার মাসে একটিও তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হলো না, একটিও নতুন বিচার শুরু হলো না কেন?’
আজ শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তাজুল ইসলাম। ‘জুলাই থ্রু দ্য লেন্স অব লিটারেচার’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে ‘রেভোল্যুশন’স ওয়াচ’ নামের একটি সংগঠন।
২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাজুল ইসলামকে, যিনি এক সময় এই ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি মামলার রায় ইতিমধ্যে হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়েছে এই চার মামলার রায়ে।
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাজুল ইসলামকে। চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পেয়ে এখন ট্রাইবুনালের মামলাগুলো এগিয়ে নিচ্ছেন মো. আমিনুল ইসলাম।
কর্মশালায় বক্তব্যে জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কি এদের বিচারগুলো করতে চাই না? এদের প্রত্যেকটা বিচার আমাদের সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে যারা রাস্তায় আস্ফালন করছে, তারা কিন্তু আবারও ফিরে আসার ধৃষ্টতা দেখাবে।’
গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় হয়েছে, তা সবাইকে পড়ে দেখার পরামর্শ দিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, এই রায়ের ওপর একটি বই লেখা উচিত। যাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন, প্রতিটি সাক্ষ্য নিয়ে বই লেখা সম্ভব।
দ্য মিডিয়া ডেস্ক 























