সাইবার সুরক্ষা আইনে নতুন করে সংশোধন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ, গুজব ও অপতথ্যের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় আলাদা বিধান যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান আইন দিয়ে অনলাইনভিত্তিক নতুন ধরনের অপব্যবহার পুরোপুরি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভুয়া বা মানহানিকর কনটেন্ট, এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর অডিও-ভিডিও এবং ক্ষতিকর প্রচারণা দমনে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করতে আইনি বাধ্যবাধকতা জোরদারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনে কনটেন্ট অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনসহ অনুমোদিত কিছু সংস্থাকে তথ্য-উপাত্ত ব্লক, অপসারণ বা হস্তান্তরের বিষয়ে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বিবেচনায় আছে।
এ উদ্যোগের পক্ষে সরকারের যুক্তি হচ্ছে, সাইবার স্পেসে গুজব, মানহানি, প্রতারণা ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী কনটেন্টের বিস্তার দ্রুত ঠেকাতে হলে আইনকে আরও কার্যকর করতে হবে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জবাবদিহি এবং অপব্যবহার রোধের প্রশ্নও সামনে আসছে।
সরকার একই সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া–সংক্রান্ত আইন হালনাগাদ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছে। ফলে সাইবার সুরক্ষা আইনের এই সংশোধন কেবল অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়, বরং বৃহত্তর আইন-শৃঙ্খলা ও ডিজিটাল শাসনব্যবস্থার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ছবি: বাংলাদেশ সচিবালয়ের ফাইল ছবি
দ্য মিডিয়া ডেস্ক 





















