ভারতের নয়াদিল্লিতে আজ শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এই বৈঠকে সীমান্তে সাম্প্রতিক ‘পুশ-ইন’ অভিযোগ, সীমান্ত হত্যা, অনিয়মিত পারাপার ও সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মেলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। ভারতীয় দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। আলোচনায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।
ঢাকার বক্তব্য হলো, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে জোর করে লোকজন বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ চাইছে, নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রত্যাবাসনের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া মেনেই সমাধান হোক। একই সঙ্গে সীমান্তে হতাহতের ঘটনাও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভারতীয় পক্ষ বলছে, তাদের অবস্থান হলো অবৈধ বিদেশিদের প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী ফেরত পাঠানো। তবে ঢাকা জোর দিয়ে বলছে, সীমান্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির বিকল্প নেই। এ কারণে এবারের সম্মেলনকে দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক এখন নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সীমান্তে উত্তেজনা না বাড়িয়ে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং বাস্তব সমস্যাগুলোর প্রশাসনিক সমাধান খুঁজে বের করাই এ ধরনের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
ছবি: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবিষয়ক একটি প্রস্তুতি বৈঠকের ফাইল ছবি
দ্য মিডিয়া ডেস্ক 























