আয়কর রিটার্নপ্রতীকী ছবিএবারের বাজেটে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত সুবিধা কমানো হয়েছে। অর্থবিলের মাধ্যমে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন আপনি যত বিনিয়োগ করবেন, এর ১০ শতাংশ কর রেয়াতের জন্য হিসাব করা হবে। আবার আপনার সর্বোচ্চ কর রেয়াতের পরিমাণ হবে সাড়ে ৭ লাখ টাকা, আগে ছিল ১০ লাখ টাকা।
এই পরিবর্তন আনা হয়েছে এবারের বাজেটে। এর ফলে করদাতাদের বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত সুবিধা কমল। আগের চেয়ে কর ভার বাড়ল। এতে বড় করদাতাদের কর রেয়াত সুবিধা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। আগের মতো একই কর রেয়াত পেতে হলে আগের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
এবারের বাজেটের অর্থবিলের মাধ্যমে আয়কর আইনের ৭৮ ধারায় সংশোধন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এত দিন বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত নেওয়ার নিয়ম ছিল করযোগ্য আয়ের ৩ শতাংশ, মোট বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা—৩টির মধ্যে যেটি কম হবে, তা-ই রেয়াতের পরিমাণ। এবারের বাজেটে তা করা হয়েছে, মোট করযোগ্য আয়ের ৩ শতাংশ, মোট বিনিয়োগের ১০ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ টাকা—৩টির মধ্যে যেটি কম হবে, তা-ই রেয়াতের পরিমাণ।
এ বিষয়ে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, একজন করদাতার এক বছরের করযোগ্য আয় হলো সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই মোট আয়ের ৩ শতাংশ হলো ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি বিনিয়োগ করলেন ১ কোটি টাকা। নতুন নিয়ম অনুসারে তিনি বিনিয়োগের ১০ শতাংশ হারে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা। আগের নিয়মে হলে এর পরিমাণ হতো ১৫ লাখ টাকা (১৫ শতাংশ হারে)। আবার নতুন নিয়মে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে সাড়ে ৭ লাখ টাকা, আগের নিয়মে ছিল ১০ লাখ টাকা।
বাজেটে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে আগামী বছর থেকে ওই করদাতা সাড়ে ৭ লাখ টাকা কর রেয়াত পাবেন, একই পরিমাণ বিনিয়োগ করে এ বছর পেতেন ১০ লাখ টাকা। নতুন নিয়মের কারণে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত কমল আড়াই লাখ টাকা। এখন বড় করদাতাদের অতীতের মতো একই পরিমাণ করছাড় পেতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, এখন বড় করদাতাদের অতীতের মতো একই পরিমাণ করছাড় পেতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। বড় করদাতাদের বিনিয়োগজনিত কর সুবিধা কমল।
দ্য মিডিয়া ডেস্ক 























