ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

লেবাননে হামলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনা কি বাড়তে পারে

যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের মধ্যে সদ্য সই হওয়া সমঝোতা স্মারক তথা প্রাথমিক চুক্তি এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণে সামরিক অভিযান জোরদার করায় অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পুরো প্রক্রিয়াই ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সই করার আগে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে।

লেবাননে হামলা ঘিরে সম্পর্কে বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি সপ্তাহের শুরুতে সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে সই করেছে। পরিকল্পনা ছিল, সুইজারল্যান্ডে গতকাল শুক্রবার দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে।

কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের নৃশংস বোমা হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শেষ মুহূর্তে তাঁর সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেন। এরপর ইরান জানায়, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ না দেখা পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয়।

অবশ্য গতকাল দিনের শেষে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ আলোচনায় অংশ নেবেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও কিছুই মানছে না যুদ্ধবাজ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার। দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো সম্ভাবনাকে ব্যাহত করতে পারে। বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে আছে।

গত ২ মার্চ থেকে প্রায় প্রতিদিন সেখানে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ে লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করবে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের বাহিনী লেবাননে দখলকৃত এলাকা থেকে সরবে না। দেশটির কয়েকজন মন্ত্রী এটাও বলেছেন, ‘পুরো লেবাননকে জ্বলতে দেওয়া উচিত।’

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট৶–ইরানের চুক্তি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আদৌ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন কি না—তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

জি–৭–এর শীর্ষ সম্মেলনের অংশ হিসেবে একটি নৈশভোজের পূর্ববর্তী সংগীতানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে, ১৬ জুন, ২০২৬ছবি: রয়টার্সসুইজারল্যান্ড সফর বাতিলের নেপথ্যেআলোচনার জন্য নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর কেন বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। আলোচনাটি সুইজারল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় লুসার্নের কাছে স্ট্যানসস্টাডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে হওয়ার কথা ছিল।

২১ জুন, ২০২৬ ইং
রবিবার
লেবাননে হামলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
উত্তেজনা কি বাড়তে পারে
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
জনপ্রিয়

লেবাননে হামলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনা কি বাড়তে পারে

লেবাননে হামলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনা কি বাড়তে পারে

আপডেটঃ ০৮:৫১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের মধ্যে সদ্য সই হওয়া সমঝোতা স্মারক তথা প্রাথমিক চুক্তি এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণে সামরিক অভিযান জোরদার করায় অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পুরো প্রক্রিয়াই ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সই করার আগে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় রাখা হয়েছে।

লেবাননে হামলা ঘিরে সম্পর্কে বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি সপ্তাহের শুরুতে সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে সই করেছে। পরিকল্পনা ছিল, সুইজারল্যান্ডে গতকাল শুক্রবার দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে।

কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের নৃশংস বোমা হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শেষ মুহূর্তে তাঁর সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেন। এরপর ইরান জানায়, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ না দেখা পর্যন্ত তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয়।

অবশ্য গতকাল দিনের শেষে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ আলোচনায় অংশ নেবেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও কিছুই মানছে না যুদ্ধবাজ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার। দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো সম্ভাবনাকে ব্যাহত করতে পারে। বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে আছে।

গত ২ মার্চ থেকে প্রায় প্রতিদিন সেখানে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ে লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করবে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের বাহিনী লেবাননে দখলকৃত এলাকা থেকে সরবে না। দেশটির কয়েকজন মন্ত্রী এটাও বলেছেন, ‘পুরো লেবাননকে জ্বলতে দেওয়া উচিত।’

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট৶–ইরানের চুক্তি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আদৌ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন কি না—তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

জি–৭–এর শীর্ষ সম্মেলনের অংশ হিসেবে একটি নৈশভোজের পূর্ববর্তী সংগীতানুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে, ১৬ জুন, ২০২৬ছবি: রয়টার্সসুইজারল্যান্ড সফর বাতিলের নেপথ্যেআলোচনার জন্য নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর কেন বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। আলোচনাটি সুইজারল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় লুসার্নের কাছে স্ট্যানসস্টাডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে হওয়ার কথা ছিল।

২১ জুন, ২০২৬ ইং
রবিবার
লেবাননে হামলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
উত্তেজনা কি বাড়তে পারে
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd