ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

পেলে কেন সামরিক শাসনের সময় নীরব ছিলেন? উত্তর মিলবে এই তথ্যচিত্রে

‘পেলে’ তথ্যচিত্রের দৃশ্য। নেটফ্লিক্সপরিবারে অর্থের অভাব ছিল চরম। বাবা দোন্দিনহো নিজেও ফুটবলার ছিলেন; কিন্তু বড় কিছু করতে পারেননি। ছোটবেলায় পেলের খেলনা ছিল না, ছিল কাপড় গুটিয়ে বানানো বল। কে জানত, কাপড় গুটিয়ে বানানো বল দিয়ে খেলা সেদিনের ছোট্ট শিশুটিই হয়ে উঠবেন ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তি। হচ্ছিল পেলের কথা। তাঁর অবিশ্বাস্য জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে বহু তথ্যচিত্র। তবে ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের ‘পেলে’ নানা কারণেই আলাদা। ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে জেনে নেওয়া যাক তথ্যচিত্রটি সম্পর্কে। এটি কেবল একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্যের গল্প নয়; বরং একটি দেশের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক জীবন্ত কিংবদন্তির কাহিনি।

পেলে কেন সামরিক শাসনের সময় নীরব ছিলেন? উত্তর মিলবে এই তথ্যচিত্রে

ডেভিড ট্রাইহর্ন ও বেন নিকোলাস পরিচালিত এই তথ্যচিত্রে পেলের ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়—১৯৫৮ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে তাঁর উত্থান, সাফল্য এবং জাতীয় প্রতীকে পরিণত হওয়ার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি শুধু গোল, ট্রফি আর রেকর্ডের গল্প নয়। এর কেন্দ্রে আছে একজন মানুষের ভেতরের দ্বন্দ্ব, দায়িত্ববোধ এবং খ্যাতির ভার বহনের ইতিহাস।

দারিদ্র্য থেকে বিশ্বের শীর্ষেপেলের জন্ম ১৯৪০ সালে ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর ত্রেস কোরাসোইসে। তাঁর আসল নাম এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। পরিবারে অর্থের অভাব ছিল চরম। বাবা দোন্দিনহো নিজেও ফুটবলার ছিলেন, কিন্তু বড় কিছু করতে পারেননি। ছোটবেলায় পেলের খেলনা ছিল না, ছিল কাপড় গুটিয়ে বানানো বল।তথ্যচিত্রে পেলে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, শৈশবে তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল পরিবারের আর্থিক কষ্ট দূর করা। ফুটবল তখন শুধু খেলা নয়, বেঁচে থাকার উপায়ও ছিল।

সেই ছেলেটিই মাত্র ১৫ বছর বয়সে যোগ দেন সান্তোস ক্লাবে। আর ১৬ বছর বয়সে ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পান। খুব দ্রুতই বোঝা যায়, ফুটবল–বিশ্ব এক অসাধারণ প্রতিভার সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

১৯৫৮: যখন পৃথিবী পেলেকে চিনলতথ্যচিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অংশ ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ। সুইডেনে অনুষ্ঠিত সেই আসরে মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলে বিশ্বকে হতবাক করে দেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত তারকা।বিশ্বকাপ জয়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়া কিশোর পেলের দৃশ্য ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

তথ্যচিত্রে সাবেক সতীর্থ, সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদেরা ব্যাখ্যা করেন, সেই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় ছিল না। ব্রাজিল তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। আর পেলে হয়ে উঠেছিলেন সেই নতুন ব্রাজিলের মুখ।

‘পেলে’ তথ্যচিত্রের দৃশ্য। নেটফ্লিক্সকৃষ্ণাঙ্গ পরিচয়ের নতুন প্রতীকপেলের উত্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর বর্ণগত পরিচয়। সে সময় ব্রাজিলে বর্ণবৈষম্য নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচনা না হলেও সমাজে এর প্রভাব ছিল গভীর।

একজন দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ তরুণের বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠা লাখো মানুষের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার গল্প। তথ্যচিত্রে দেখানো হয়, পেলের জনপ্রিয়তা শুধু ফুটবল মাঠে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি হয়ে উঠেছিলেন সামাজিক অগ্রগতিরও প্রতীক।তবে এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে এসেছিল বিশাল চাপ। তাঁকে সব সময় নিখুঁত হতে হতো। ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গা প্রায় ছিল না বললেই চলে।

১৯৬২ ও ১৯৬৬: গৌরবের আড়ালে হতাশা১৯৬২ সালে ব্রাজিল আবার বিশ্বকাপ জেতে। কিন্তু পেলে ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের বড় অংশ খেলতে পারেননি। যদিও দল ট্রফি জেতে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি সেই সাফল্যের পুরো আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি।আর ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ছিল এক দুঃস্বপ্ন। প্রতিপক্ষের রূঢ় ট্যাকল ও অপর্যাপ্ত সুরক্ষার কারণে বারবার আহত হন পেলে। হতাশ হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

১৯ জুন, ২০২৬ ইং
শুক্রবার
পেলে কেন সামরিক শাসনের
সময় নীরব ছিলেন? উত্তর মিলবে এই তথ্যচিত্রে
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
জনপ্রিয়

পেলে কেন সামরিক শাসনের সময় নীরব ছিলেন? উত্তর মিলবে এই তথ্যচিত্রে

পেলে কেন সামরিক শাসনের সময় নীরব ছিলেন? উত্তর মিলবে এই তথ্যচিত্রে

আপডেটঃ ০৯:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

‘পেলে’ তথ্যচিত্রের দৃশ্য। নেটফ্লিক্সপরিবারে অর্থের অভাব ছিল চরম। বাবা দোন্দিনহো নিজেও ফুটবলার ছিলেন; কিন্তু বড় কিছু করতে পারেননি। ছোটবেলায় পেলের খেলনা ছিল না, ছিল কাপড় গুটিয়ে বানানো বল। কে জানত, কাপড় গুটিয়ে বানানো বল দিয়ে খেলা সেদিনের ছোট্ট শিশুটিই হয়ে উঠবেন ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তি। হচ্ছিল পেলের কথা। তাঁর অবিশ্বাস্য জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে বহু তথ্যচিত্র। তবে ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের ‘পেলে’ নানা কারণেই আলাদা। ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে জেনে নেওয়া যাক তথ্যচিত্রটি সম্পর্কে। এটি কেবল একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্যের গল্প নয়; বরং একটি দেশের ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক জীবন্ত কিংবদন্তির কাহিনি।

পেলে কেন সামরিক শাসনের সময় নীরব ছিলেন? উত্তর মিলবে এই তথ্যচিত্রে

ডেভিড ট্রাইহর্ন ও বেন নিকোলাস পরিচালিত এই তথ্যচিত্রে পেলের ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়—১৯৫৮ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে তাঁর উত্থান, সাফল্য এবং জাতীয় প্রতীকে পরিণত হওয়ার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি শুধু গোল, ট্রফি আর রেকর্ডের গল্প নয়। এর কেন্দ্রে আছে একজন মানুষের ভেতরের দ্বন্দ্ব, দায়িত্ববোধ এবং খ্যাতির ভার বহনের ইতিহাস।

দারিদ্র্য থেকে বিশ্বের শীর্ষেপেলের জন্ম ১৯৪০ সালে ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর ত্রেস কোরাসোইসে। তাঁর আসল নাম এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। পরিবারে অর্থের অভাব ছিল চরম। বাবা দোন্দিনহো নিজেও ফুটবলার ছিলেন, কিন্তু বড় কিছু করতে পারেননি। ছোটবেলায় পেলের খেলনা ছিল না, ছিল কাপড় গুটিয়ে বানানো বল।তথ্যচিত্রে পেলে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, শৈশবে তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল পরিবারের আর্থিক কষ্ট দূর করা। ফুটবল তখন শুধু খেলা নয়, বেঁচে থাকার উপায়ও ছিল।

সেই ছেলেটিই মাত্র ১৫ বছর বয়সে যোগ দেন সান্তোস ক্লাবে। আর ১৬ বছর বয়সে ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পান। খুব দ্রুতই বোঝা যায়, ফুটবল–বিশ্ব এক অসাধারণ প্রতিভার সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

১৯৫৮: যখন পৃথিবী পেলেকে চিনলতথ্যচিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অংশ ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ। সুইডেনে অনুষ্ঠিত সেই আসরে মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলে বিশ্বকে হতবাক করে দেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত তারকা।বিশ্বকাপ জয়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়া কিশোর পেলের দৃশ্য ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

তথ্যচিত্রে সাবেক সতীর্থ, সাংবাদিক ও ইতিহাসবিদেরা ব্যাখ্যা করেন, সেই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় ছিল না। ব্রাজিল তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। আর পেলে হয়ে উঠেছিলেন সেই নতুন ব্রাজিলের মুখ।

‘পেলে’ তথ্যচিত্রের দৃশ্য। নেটফ্লিক্সকৃষ্ণাঙ্গ পরিচয়ের নতুন প্রতীকপেলের উত্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর বর্ণগত পরিচয়। সে সময় ব্রাজিলে বর্ণবৈষম্য নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচনা না হলেও সমাজে এর প্রভাব ছিল গভীর।

একজন দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ তরুণের বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠা লাখো মানুষের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার গল্প। তথ্যচিত্রে দেখানো হয়, পেলের জনপ্রিয়তা শুধু ফুটবল মাঠে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি হয়ে উঠেছিলেন সামাজিক অগ্রগতিরও প্রতীক।তবে এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে এসেছিল বিশাল চাপ। তাঁকে সব সময় নিখুঁত হতে হতো। ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গা প্রায় ছিল না বললেই চলে।

১৯৬২ ও ১৯৬৬: গৌরবের আড়ালে হতাশা১৯৬২ সালে ব্রাজিল আবার বিশ্বকাপ জেতে। কিন্তু পেলে ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের বড় অংশ খেলতে পারেননি। যদিও দল ট্রফি জেতে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি সেই সাফল্যের পুরো আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি।আর ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ছিল এক দুঃস্বপ্ন। প্রতিপক্ষের রূঢ় ট্যাকল ও অপর্যাপ্ত সুরক্ষার কারণে বারবার আহত হন পেলে। হতাশ হয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

১৯ জুন, ২০২৬ ইং
শুক্রবার
পেলে কেন সামরিক শাসনের
সময় নীরব ছিলেন? উত্তর মিলবে এই তথ্যচিত্রে
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd