ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে ইরানের দাবি নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিতে কিছু জাহাজ থেমে আছেরয়টার্স ফাইল ছবিযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। এ অবস্থায় শান্তি আলোচনার পরিবেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটন ছেড়েছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান বলেছে, আজ রোববার আলোচনা শুরু হবে।

আলোচনা চলাকালে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। লেবাননে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার জেরে গতকাল শনিবার ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলেছে, ওই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত আছে।

এমন পরিস্থিতি শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আলোচনার লক্ষ্য হলো, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরান–যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী চুক্তি এগিয়ে নেওয়া। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এর উদ্দেশ্য, দুই দেশের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। তারা সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে আসা জাহাজগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অবশ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, শনিবার ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এসব জাহাজে করে বিশ্ববাজারের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল পরিবহন করা হচ্ছে।

সেন্টকম আরও বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে এবং এর পরেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো টোল বা ফি নেওয়া হবে না। তবে যদি শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে এমন ফি আরোপ করতে পারে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া ১৪ দফা অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রথম শর্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। ওই শর্তে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির কথা রয়েছে।

২১ জুন, ২০২৬ ইং
রবিবার
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে
দেওয়া নিয়ে ইরানের দাবি নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
জনপ্রিয়

সরকারবিরোধী টানা বিক্ষোভে উত্তাল বলিভিয়া, জরুরি অবস্থা জারি, সেনা মোতায়েন

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে ইরানের দাবি নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটঃ ০৩:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে কিছু জাহাজ থেমে আছেরয়টার্স ফাইল ছবিযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। এ অবস্থায় শান্তি আলোচনার পরিবেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটন ছেড়েছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান বলেছে, আজ রোববার আলোচনা শুরু হবে।

আলোচনা চলাকালে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। লেবাননে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার জেরে গতকাল শনিবার ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলেছে, ওই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত আছে।

এমন পরিস্থিতি শান্তি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আলোচনার লক্ষ্য হলো, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরান–যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী চুক্তি এগিয়ে নেওয়া। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এর উদ্দেশ্য, দুই দেশের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। তারা সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে আসা জাহাজগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অবশ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, শনিবার ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এসব জাহাজে করে বিশ্ববাজারের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল পরিবহন করা হচ্ছে।

সেন্টকম আরও বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে এবং এর পরেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো টোল বা ফি নেওয়া হবে না। তবে যদি শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে এমন ফি আরোপ করতে পারে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া ১৪ দফা অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রথম শর্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। ওই শর্তে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির কথা রয়েছে।

২১ জুন, ২০২৬ ইং
রবিবার
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে
দেওয়া নিয়ে ইরানের দাবি নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd