ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ট্রাম্পের অযৌক্তিক যুদ্ধ আর অবাস্তব স্বপ্নের ফসল ইরান চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দিনও দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার পর আকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। ১৭ জুন ২০২৬ছবি: রয়টার্সকথায় আছে, শত্রুর সঙ্গে প্রথম সংঘর্ষের পর কোনো যুদ্ধই আর পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা, দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং হিজবুল্লাহ, হামাসসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের অবসান ঘটানো।

ট্রাম্পকে শেষ পর্যন্ত তাঁর এসব উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থেকে সরে যেতে হয়েছে এবং তিনি এমন অবস্থায় সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে ইরান কেবল তাঁকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করবে না এবং ভবিষ্যতে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনা করবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) এমনকি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কোনো উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে এমওইউতে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার উল্লেখ থাকায় হিজবুল্লাহ এটিকে তাদের ‘বিজয়’ হিসেবে উদ্‌যাপন করছে; যদিও ইসরায়েল এখনো লেবাননের একটি অংশকে ‘বাফার জোন’ হিসেবে দখল করে রেখেছে।

এ যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। নৌপথে বিশ্ববাণিজ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জলপথ।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুদ্ধ নিয়ে প্রায় সব কটি সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণে এ নিয়ে পূর্বাভাস দিয়ে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরু হলে ইরান খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে।

এ প্রণালি আবার খুলে দিতে এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে তাদের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলো থেকে সরে আসতে বাধ্য হতে হয়েছে, নয়তো ট্রাম্পের ভাষায় একটি ‘বিশ্বব্যাপী মহামন্দা’ মোকাবিলা করতে হতো।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট কূটনৈতিক ফেলো বারবারা লিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধ শুরু করেছিল শাসনব্যবস্থার (ইরানের) স্থিতিশীলতা সম্পর্কে অবাস্তব মূল্যায়ন নিয়ে; পাশাপাশি তারা ইরানের হরমুজ প্রণালি দখল বা বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা এবং উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের স্থাপনায় তেহরানের আক্রমণ করার প্রস্তুতিকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি।

১৯ জুন, ২০২৬ ইং
শুক্রবার
ট্রাম্পের অযৌক্তিক যুদ্ধ আর
অবাস্তব স্বপ্নের ফসল ইরান চুক্তি
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd
জনপ্রিয়

ট্রাম্পের অযৌক্তিক যুদ্ধ আর অবাস্তব স্বপ্নের ফসল ইরান চুক্তি

ট্রাম্পের অযৌক্তিক যুদ্ধ আর অবাস্তব স্বপ্নের ফসল ইরান চুক্তি

আপডেটঃ ০১:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দিনও দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার পর আকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। ১৭ জুন ২০২৬ছবি: রয়টার্সকথায় আছে, শত্রুর সঙ্গে প্রথম সংঘর্ষের পর কোনো যুদ্ধই আর পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা, দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং হিজবুল্লাহ, হামাসসহ আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের অবসান ঘটানো।

ট্রাম্পকে শেষ পর্যন্ত তাঁর এসব উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থেকে সরে যেতে হয়েছে এবং তিনি এমন অবস্থায় সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে ইরান কেবল তাঁকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করবে না এবং ভবিষ্যতে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও আলোচনা করবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) এমনকি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কোনো উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে এমওইউতে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার উল্লেখ থাকায় হিজবুল্লাহ এটিকে তাদের ‘বিজয়’ হিসেবে উদ্‌যাপন করছে; যদিও ইসরায়েল এখনো লেবাননের একটি অংশকে ‘বাফার জোন’ হিসেবে দখল করে রেখেছে।

এ যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। নৌপথে বিশ্ববাণিজ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক জলপথ।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুদ্ধ নিয়ে প্রায় সব কটি সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণে এ নিয়ে পূর্বাভাস দিয়ে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরু হলে ইরান খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে।

এ প্রণালি আবার খুলে দিতে এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে তাদের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলো থেকে সরে আসতে বাধ্য হতে হয়েছে, নয়তো ট্রাম্পের ভাষায় একটি ‘বিশ্বব্যাপী মহামন্দা’ মোকাবিলা করতে হতো।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট কূটনৈতিক ফেলো বারবারা লিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধ শুরু করেছিল শাসনব্যবস্থার (ইরানের) স্থিতিশীলতা সম্পর্কে অবাস্তব মূল্যায়ন নিয়ে; পাশাপাশি তারা ইরানের হরমুজ প্রণালি দখল বা বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা এবং উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের স্থাপনায় তেহরানের আক্রমণ করার প্রস্তুতিকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি।

১৯ জুন, ২০২৬ ইং
শুক্রবার
ট্রাম্পের অযৌক্তিক যুদ্ধ আর
অবাস্তব স্বপ্নের ফসল ইরান চুক্তি
বিস্তারিত কমেন্টে >>>
🌐 themedia.com.bd